কেমিক্যাল ফরমালিন মুক্ত আম চেনার সহজ উপায়

কেমিক্যাল ফরমালিন মুক্ত আম চেনার সহজ উপায়

আমাদের দেশে বিদেশে আম পছন্দ করে না এমন কোন মানুষ হয়ত খুঁজে পাওয়া কঠিন। আমের বাজারে গেলেই এখন পাকা আমের গন্ধে ছড়া ছড়ি হয়ে একাকার। কিছু দিনের মধ্যে বিভিন্ন রকমের আম পাওয়া যাবে বাজারে। প্রতিটা আমের নাম যেমন আলাদা তেমনী খেতেও তেমনী খেতেও অনেত সুস্বাদু। প্রাকৃতিক এই সুস্বাদু আমে এখন বিভিন্ন ধরণের ক্যামিক্যাল ও ফরমালিন মিশিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বাজারজাত করছে। আর আমকে দিনে দিনে আতঙ্কের ফল হিসেবেই পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে। এসব কেমিক্যাল মানুষের জন্য যেমন ভয়াবহ তেমনী ক্যান্সার এরমত বিভিন্ন রোগের আতঙ্ক ।

আমে কেমিক্যাল দেওয়ার কারণ:

  • আমের রং উজ্জল হলুদ করার জন্য, যেন গ্রাহক আকৃষ্ট হয়ে ক্রয় করে।
  • সব আম একসাথে পাঁকানোর জন্য। আম ভাঙ্গারপর সব আম একসাথে পাঁকে না।
  • আম অনেক দিন পঁচন রোধ করার জন্য। বেশি দিন যেন থাকে সহজে যেন নাপঁচে।

ফরমালিন মুক্ত আম চেনার উপায়:

ফরমালিন দেওয়া পাঁকা আমের উপর মাছি বসে না। আম সহজে পঁচবে না। সব সময় শক্ত ও টাটকা দেখাবে। কেমিক্যাল দেওয়া আমের রং উজ্জল হলুদ হবে। গাছে থাকা অবস্থায় আমের শরীরে এক রকম সাদাটে ভাব থাকে। যদি আমে কেমিকেল বা ফরমালিন স্প্রে করা হয় তাহলে সেটা আর থাকবে না। পাকার পরেও 70% সাদাটে ভাব থাকবে। যদি দেখে মনে হয় আম ধোয়া হয়েছে তাহলে সেটা বুঝতে হবে কেমিক্যালের স্প্রে বা ক্যামিকেলে চুবানো হয়েছে। ফরমালিন বা রাসায়নিকে চুবানো আম সব সময় ঝকঝকে সুন্দর হবে।

কারবাইড বা অন্য কিছু দিয়ে পাকানো আমের শরীর হয় মোলায়েম ও দাগহীন হয়। কেননা আমগুলো কাঁচা অবস্থাতেই নামিয়ে কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো হয়। গাছপাঁকা আমের ত্বকে দাগ পড়বেই। ঝঁক ঝঁকে আম মানেই ক্যামিক্যাল যুক্ত আম বুঝতে হবে।

গাছপাকা আমের ত্বকের রঙে ভিন্নতা থাকবে। উপরের দিকে গাঢ় হলুদ রঙ হবে আর নিচের দিকে সবুজ থাকবে যেটা স্বাভাবিক। কারবাইড দেওয়া আমের আগাগোড়া হলদ হয়ে যাবে। কখনো কখনো বেশি দেওয়া হলে সাদাটেও হয়ে যায়।

হিমসাগর গোপাল, ফজলি ইত্যাদি ছাড়াও নানান জাতের আম আছে যা পাকলেও সবুজ থাকে কিন্তু অত্যন্ত মিষ্টি হয়। গাছপাকা হলে এইসব আমের ত্বকে খসখসে দাগ পড়ে থাকে। ওষুধ দিয়ে পাকানো হলে আমের শরীর হয় মসৃণ ও সুন্দর হয়।

আম নাকের কাছে নিয়ে ভালো করে শুঁকে গন্ধ নিন। গাছ পাকা আম হলে অবশ্যই বোটার কাছে ঘ্রাণ থাকবে। ওষুধ দেওয়া আম হলে কোনো গন্ধ থাকবে না দুর্গন্ধ থাকবে।

আম মুখে দেওয়ার পর যদি দেখেন যে কোনো সৌরভ নেই কিংবা আমে টক বা মিষ্টি কোনো স্বাদ নেই, বা আম বেশি টক তাহলে বুঝবেন সে আমে ওষুধ কেমিক্যাল দেওয়া রয়েছে অপরিপক্ষ আম কেমিকেল দিয়ে পাঁকানো হয়েছে।

বাজার থেকে আম কেনার পর কিছুক্ষণ ঘরে রেখে দিন। এমন কোথাও রাখুন যেখানে বাতাস চলাচল করে না। গাছ পাকা পুষ্ট আম হলে চারপাশ সুন্দর গন্ধ ছড়াবে, যা কেমিক্যাল দেওয়া আমে এমন মিষ্টি সুগন্ধ হবেই না।

কেমিক্যালে পাকানো আম হলুদ না হয়ে সাদার মত রং ধারণ করে। অনেক সময় ক্রেতার নজর কাড়তে ও আমের গায়ে থাকা দাগ দূর করতে এক ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়। কিছু আম আছে যেগুলে পাকলেও চামড়া সবুজ থাকে এরকম আম ক্রেতারা দেখেই কিনতে চায় না। ফলে ক্রেতা আকৃষ্ট করার জন্য এসব আমে কেমিক্যাল ব্যাবহার হয়।

আমকে কেমিকেল মুক্ত করার উপায়:

বর্তমানে সব কিছুতেই ভেজাল আর ফল মানেই হচ্ছে কেমিক্যাল। তাহলে এখন কি করবেন? কেমিক্যাল মুক্ত আম কোনার আগে উপরের বিষয়গুলে খেয়াল করুন আশা করছি তাহলে বুঝতে পারবেন। আম কেনার পর যদি মনে হয় কেমিকেল দেওয়া আছে তাহলে আম কে কেমিকেল মুক্ত করে খাওয়া যায়। আম কে কেমিকেল বা ফরমালিন মুক্ত করতে হলে পাঁকা আম নিয়ে ২৫-৩০ মিনিট ডুবানো পানিতে ডুবিয়ে রাখতে হবে। পানিতে ডুবিয়ে রাখার কারণে আম গুলো কেমিকেল দেওয়া থাকলে তা বের হয়ে যাবে তখন আপনি নিশ্চিন্তে খেতে পারবেন।

Leave a Reply